যখন গরমের ছুটি পড়ত,যখন ছুটি-ছুটি হত আর আমার যুক্তিফুল-মাখা ভাত পড়ে থাকত, যখন ছুটি-ছুটি হয়ে গেলেই হাতেরলেখা নিয়ে বসতে হত আর ভাবতাম কেন জড়ানো হাতের লেখা শিখতে হবে যদি সেই নিটনেসের জন্যে ছেড়ে ছেড়েই লিখতে বলবে, আর যখন লিখতে ভাল্লাগছে না বলে মায়ের পাশটাতেই ঘুমের ভান করে শুয়ে পড়তাম, আর জানলা দিয়ে শুধু ফুটফুটে নীল আকাশের গায়ে তিনটে নারকোল গাছের মাথা দেখতাম, আর তারও ওপরে অনেক দূরে কালো কালো দাগের মত ছোট হয়ে যাওয়া চিল উড়ত আর ভাবতাম ওরা ডানা ঝাপটায় না কেন, শুধু গ্লাইড করে কি করে, আর এভাবেই কি জটায়ু উড়ত আর তাই ওর ডানা কেটে দেওয়া অত ইজ়ি ছিল, আর এভাবেই কি গাংচিলও উড়ে মাছ চুরি করতে গিয়ে বগাপুলিশের হাতে ধরা পড়ে যেত আর সেই ভয়ে ভুতু আর হাঁসুখোকা গুটি গুটি সরে পড়ত, এসব ভাবতে ভাবতে বেখেয়াল হয়ে যেতাম, তখনই মায়ের ঘুম ভেঙে যেত আর হাতেরলেখা একটুও এগোয়নি বলে রেগে যেত কারণ প্রত্যেকবারের মতই আমার ছুটির কাজ জমতে থাকত শেষদিনটার জন্যে।