ভাই বেরিয়ে গেল। আমার সন্দেহ হল এই ট্রমা কাটিয়ে উঠে ওর পক্ষে আর কোনওদিন হিন্দী গান গাওয়া সম্ভব হবে না। আরেকদিকে মনের ভেতর সুনামিক প্রশ্ন যে হিন্দী গান গাইলে কী হয়। কিনতু এ যা জিনিস! একে জিজ্ঞেস করলে নির্ঘাত ব্রহ্মতেজে ঝলসে দেবে। আমি চুপচাপ ‘নোট’ নিতে লাগলাম আর আড়চোখে দেখতে লাগলাম। লম্বা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলতে ইচ্ছে হল।
যখন প্রথমবার শুনেছিলাম এবার দিদিমণির পরিবর্তে স্যার, দেদার পুলক হয়েছিল। কে না জানে টিউশন স্যারেরা ভবিষ্যৎ প্রেমিক হয়। বাবার সাথে যেদিন কথা বলে গেল, উঁকি ঝুঁকি মেরেও বেশি কিছু দেখতে পেলুম না। কৌতুহলের মত জিনিস নিবৃত্ত না হলে যা হয়। উত্তেজনা আর কল্পনা পাল্লা দিতে লাগল। প্রথমে ভাইকে পড়াবে শুনে খুব খুশি হলুম। অবজ়ার্ভেশনের পক্ষে খুবই অনুকূল সংবাদ। লোকটা এল একটা তালপাতার সেপাই। ফটফটে ফরসা। একটু সন্দেহ হল রোগা হতে হতে সী-থ্রু হয়ে গেছে কিনা। তা হোক, মনকে বোঝালাম। দেখতে নিয়ে ভাবে শ্যালোরা। কিন্তু গোটা সেশনটায় পাশের ঘর থেকে যা চাপা গর্জন আসতে লাগল পুরো বাড়া-ভাতে ছাই।